Tips

দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর?

দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া কি শরীরের জন্য ক্ষতিকর

ধরুন স্কুলে দৌড়ে যাচ্ছেন, গলা শুকিয়ে কাঠ, সামনে ট্যাপ, আপনি দাঁড়িয়েই এক ঢোক পানি খেলেন। তারপর কেউ বলল, “দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া নাকি খুব ক্ষতিকর!” এমন কথা আমরা প্রায়ই শুনি, বাড়িতে, সোশ্যাল মিডিয়ায়, এমনকি বন্ধুর কাছ থেকেও। কিন্তু প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া শরীর নষ্ট করে দেয়? নাকি এটা অতিরঞ্জন?
আসলে পানি খাওয়ার ভঙ্গি (দাঁড়িয়ে/বসে) নিয়ে অনেক “কঠিন নিয়ম” ছড়িয়ে আছে, কিন্তু স্বাস্থ্যবিষয়ক সিদ্ধান্ত নিতে হলে আমাদের দেখা উচিত প্রমাণ কী বলে। ভালো খবর হলো, বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া একেবারে “বিপজ্জনক” এমন প্রমাণ খুব শক্ত নয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে বসে ধীরে পানি খাওয়া বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ হতে পারে, বিশেষ করে অ্যাসিডিটি, গলা আটকে যাওয়ার ঝুঁকি, বা খুব দ্রুত পানি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে।

দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া নিয়ে বিজ্ঞান আসলে কী বলে

সোজা কথা: দাঁড়িয়ে পানি খেলেই কিডনি নষ্ট, জয়েন্ট নষ্ট, আর্থ্রাইটিস, এমন “সরাসরি” প্রমাণভিত্তিক কথা পাওয়া যায় না। কিছু ফ্যাক্ট-চেক ও মেডিকেল বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার কারণে জয়েন্ট ক্ষতি হয়, এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ বা চিকিৎসকদের মধ্যে স্পষ্ট ঐকমত্য নেই।
আমাদের শরীর পানি হজম করে খুব স্বাভাবিকভাবেই, আপনি দাঁড়িয়ে, বসে, বা হাঁটতে হাঁটতে পানি খেলেও পানি শেষ পর্যন্ত পাকস্থলীতে যায় এবং শোষণ হয়। ভঙ্গির কারণে “পানি ভুল জায়গায় চলে যাবে” ,  সাধারণ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটা সাধারণত হয় না। তবে পান করার সময় গলার কাজ (swallowing) ভঙ্গি ও দেহভঙ্গির সঙ্গে সম্পর্কিত, বিশেষ করে যাদের গিলতে সমস্যা (dysphagia) আছে তাদের ক্ষেত্রে ভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মানে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া নিজেই বড় ক্ষতি নয়, কিন্তু আপনার শরীরের অবস্থা ও পান করার ধরন (দ্রুত/ধীরে) বিষয়টা বদলাতে পারে।

তাহলে মানুষ কেন বলে “বসে পানি খাও”, এর পেছনে যুক্তি কী

এই কথার পেছনে একটা বাস্তবসম্মত দিক আছে: বসে পানি খেলে আমরা সাধারণত ধীরে খাই, তাড়াহুড়া কম হয়, এবং মনোযোগও একটু বেশি থাকে। তাড়াহুড়া করে দাঁড়িয়ে বা হাঁটতে হাঁটতে পানি খেলে অনেকে একসাথে অনেকটা গিলে ফেলেন, এতে কারও কারও পেটে অস্বস্তি, ঢেঁকুর, বা গলা “ভুল পথে” যাওয়ার মতো কাশি আসতে পারে।
আরেকটা বিষয় হলো, খাবার বা পানীয়ের পরে শরীরকে সোজা রাখা অনেকের রিফ্লাক্স/বুকজ্বালায় সাহায্য করে, ডাক্তাররা সাধারণত খাবারের পর শুয়ে পড়া বা ঝুঁকে বসা এড়িয়ে চলতে বলেন। তাই “বসে পানি খাওয়া ভালো” কথাটা অনেক সময় “শান্তভাবে, ধীরে, আরাম করে পানি খাও” , এই বার্তাটাই দেয়।
অর্থাৎ নিয়মটা সবসময় “দাঁড়ালে ক্ষতি” নয়, বরং “বসে খেলে অভ্যাসটা ভালো হয়” , এটাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা থাকলে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া কি সমস্যা বাড়ায়

অ্যাসিডিটি/রিফ্লাক্স (GERD) থাকলে মূল সমস্যা সাধারণত ভঙ্গি নয়, খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়া, বেশি খাওয়া, ঝাল-তেল, বা দ্রুত খাওয়ার মতো অভ্যাস। তবু বাস্তবে দেখা যায়, দাঁড়িয়ে দ্রুত পানি গিলে ফেললে কেউ কেউ পেটে চাপ/অস্বস্তি অনুভব করেন, আর বসে ধীরে খেলে আরাম পান।
মনে রাখবেন, অনেক স্বাস্থ্য পরামর্শে “সোজা থাকা” উপকারী বলা হয়, কারণ ঝুঁকে থাকা বা শোয়া অবস্থায় এসিড ওপরে ওঠা সহজ হয়। তাই “দাঁড়িয়ে পানি খেলেই বুকজ্বালা হবে”, এটা নিশ্চিত কথা নয়। আপনার যদি বুকজ্বালা হয়, সবচেয়ে কাজের ব্যাপার হলো একবারে ঢকঢক করে না খাওয়া, ছোট চুমুকে ধীরে পানি খাওয়া, আর খাবারের পরে কিছুক্ষণ সোজা থাকা।
যদি নিয়মিত বুকজ্বালা/ঢেকুর/বমিভাব থাকে, তাহলে ভঙ্গির চেয়ে খাদ্যাভ্যাস ও চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি জরুরি।

কাদের জন্য বসে পানি খাওয়া বেশি নিরাপদ

কিছু মানুষের জন্য বসে ধীরে পানি খাওয়া সত্যিই ভালো, এটা “রুল” হিসেবে নয়, “সেফটি” হিসেবে। যেমন বয়স্ক মানুষ, স্ট্রোকের পর দুর্বলতা, গিলতে সমস্যা (dysphagia), পারকিনসনসের মতো স্নায়ুর রোগ, বা যাদের পানি খেলেই কাশি আসে, তাদের ক্ষেত্রে পানি গিলতে গিয়ে শ্বাসনালিতে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় দেহভঙ্গি, মাথা-ঘাড়ের অবস্থান, সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
আর শিশুদের ক্ষেত্রেও দৌড়াতে দৌড়াতে পানি খেলে অনেক সময় কাশি/গলা আটকে যাওয়ার ঝামেলা হয়, তাই থেমে বসে বা দাঁড়িয়ে হলেও স্থির হয়ে ধীরে পানি খাওয়াই ভালো।
সুস্থ একজন কিশোর বা প্রাপ্তবয়স্ক যদি স্বাভাবিকভাবে পানি খেতে পারেন, তাহলে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া নিয়ে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু আপনার যদি “গিলতে কষ্ট”, “পানি খেলেই কাশি”, বা “বারবার গলা আটকে আসে”, তাহলে বসে ধীরে খাওয়ার অভ্যাস করা বুদ্ধিমানের।

দাঁড়িয়ে পানি খেলে কিডনি বা জয়েন্ট নষ্ট হয়, এটা কি মিথ

এই কথাগুলো খুব ভাইরাল, কিন্তু প্রমাণের জায়গায় গেলে বেশ দুর্বল। “দাঁড়িয়ে পানি খেলে জয়েন্টে পানি জমে আর্থ্রাইটিস হয়”, এমন দাবির পক্ষে বৈজ্ঞানিকভাবে শক্ত প্রমাণ নেই বলে ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্টগুলো জানিয়েছে। একইভাবে “দাঁড়িয়ে পানি খেলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়”, এই ধরনের দাবিও চিকিৎসাবিদের বক্তব্য অনুযায়ী সমর্থন পায় না।
জয়েন্ট বা কিডনি সমস্যার কারণ সাধারণত অন্য জিনিস, ওজন, ইনজুরি, বংশগত ঝুঁকি, ডায়াবেটিস/উচ্চ রক্তচাপ, পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া, কিছু ওষুধ, বা দীর্ঘদিনের রোগ। দাঁড়িয়ে পানি খাওয়াটা একা “মূল কারণ” হয়ে যায়, এমনভাবে মেডিকেল বিজ্ঞান বিষয়টাকে দেখে না।
তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ভয় ধরানো কথার বদলে বাস্তব কথা ধরুন: পানি খাওয়া জরুরি, আর সেটা নিয়মিত ও পর্যাপ্ত হওয়াটাই মূল।

পানি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো নিয়ম:

ভঙ্গির চেয়ে বড় কথা হলো আপনি কতটা পানি পান করছেন, কত নিয়মিত পান করছেন, আর শরীরের সিগন্যাল বুঝছেন কি না। সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান স্বাস্থ্যকর, কিন্তু প্রয়োজন বয়স, কাজ, আবহাওয়া, শরীরের অবস্থার উপর বদলায়।
দাঁড়িয়ে খেলে যদি আপনি খুব তাড়াহুড়া করে ফেলেন, তাহলে শুধু ২টা কাজ করুন, একটু থামুন, শ্বাস স্বাভাবিক করুন, তারপর ছোট চুমুকে ধীরে খান। বসে খাওয়া সুযোগ হলে বসে খান, কারণ এতে তাড়াহুড়া কম হয়।
আর যদি আপনি ব্যায়াম করছেন, খেলাধুলা করছেন, বা বাইরে গরমে আছেন, সেই সময়ে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়াই অনেক সময় বাস্তবসম্মত। তখনও লক্ষ্য রাখবেন: একবারে অনেকটা নয়, একটু একটু করে। আপনার প্রস্রাব যদি খুব গাঢ় হলুদ হয় বা মাথা ঘোরে, এগুলো পানি কম খাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

দাঁড়িয়ে পানি পান করা নিয়ে ইসলাম কি বলে

ইসলামে এই বিষয়ে কথা বলতে গেলে আমরা দুটো ধরনের সহিহ হাদিসই পাই। একদিকে কিছু বর্ণনায় আছে, নবী ﷺ দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন বা না করতে বলেছেন। এই বর্ণনা থেকে অনেক আলেম বলেছেন, বসে পানি পান করা আদব ও সুন্নাহর দিক থেকে বেশি ভালো। তবে অন্যদিকে আবার সহিহ বর্ণনায় আছে, নবী ﷺ কখনও দাঁড়িয়েও পানি পান করেছেন, যেমন জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করার ঘটনা। এটা প্রমাণ করে যে দাঁড়িয়ে পান করা একেবারে হারাম নয়, বরং প্রয়োজন বা পরিস্থিতির কারণে তা করা জায়েজ। তাই অনেক আলেম এই দুই ধরনের বর্ণনাকে মিলিয়ে বলেছেন, সাধারণ অবস্থায় বসে ধীরে পানি পান করা উত্তম (ভালো অভ্যাস ও শিষ্টাচার), আর দাঁড়িয়ে পান করা অনুমোদিত, কিন্তু বসে পান করা বেশি পছন্দনীয়।

প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া কি হারাম/নিষিদ্ধ বা একেবারে ভুল?
উত্তর: স্বাস্থ্যদৃষ্টিতে একেবারে নিষিদ্ধ নয়; বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণ শক্ত নয়, তবে বসে ধীরে খাওয়া ভালো অভ্যাস।

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খেলে কি কিডনি নষ্ট হয়?
উত্তর: কিডনি নষ্ট হওয়ার প্রধান কারণ দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া নয়; দীর্ঘদিন কম পানি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত লবণ ইত্যাদি বড় কারণ।

প্রশ্ন: গ্যাস্ট্রিক থাকলে দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া কি ক্ষতি করে?
উত্তর: গ্যাস্ট্রিক/রিফ্লাক্স থাকলে দ্রুত ঢোক দিলে অস্বস্তি বাড়তে পারে, তাই বসে ধীরে খাওয়া বেশি আরামদায়ক।

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খেলে কি পানি “ভুল পথে” যায়?
উত্তর: তাড়াহুড়ো করে বা কথা বলতে বলতে খেলে কাশি/হেঁচকি হতে পারে; স্থির হয়ে ছোট ঢোক নিলে ঝুঁকি কমে।

প্রশ্ন: খাবারের পরপরই পানি খাওয়া কি ঠিক?
উত্তর: খুব বেশি পানি একসঙ্গে না খাওয়াই ভালো; প্রয়োজন হলে অল্প অল্প করে পান করুন, বিশেষ করে বদহজম হলে।

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খাওয়ার বদলে বসে খাওয়ার বিজ্ঞানসম্মত সুবিধা কী?
উত্তর: বসে খেলে গতি নিয়ন্ত্রণ, শ্বাসের ছন্দ, এবং শরীরের তৃষ্ণা-সংকেত বোঝা সহজ হয়, অস্বস্তিও কম হতে পারে।

প্রশ্ন: কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে পানি খাওয়া উচিত নয়?
উত্তর: যদি মাথা ঘোরে, দুর্বল লাগে, বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে আগে বসে স্থির হয়ে পানি খাওয়াই নিরাপদ।

প্রশ্ন: ঠান্ডা পানি দাঁড়িয়ে খেলে বেশি সমস্যা হয় কি?
উত্তর: অনেকের ক্ষেত্রে খুব ঠান্ডা পানি দ্রুত খেলে গলা/বুক অস্বস্তি বাড়ে; মাঝারি তাপমাত্রার পানি ধীরে খাওয়া ভালো।

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খেলে কি হজম খারাপ হয়?
উত্তর: দাঁড়িয়ে থাকার জন্য নয়, দ্রুত খাওয়ার অভ্যাসের কারণে হজমে অস্বস্তি হতে পারে; ধীরে খেলে সমস্যা কমে।

প্রশ্ন: প্রতিদিন কত পানি খাওয়া উচিত?
উত্তর: বয়স, আবহাওয়া, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে; লক্ষ্য রাখুন প্রস্রাব যেন হালকা হলুদ থাকে এবং তৃষ্ণা বারবার না লাগে।

প্রশ্ন: দাঁড়িয়ে পানি খেতে হলে সবচেয়ে নিরাপদ নিয়ম কী?
উত্তর: হাঁটা থামিয়ে স্থির হয়ে দাঁড়ান, ছোট ঢোক নিন, তাড়াহুড়ো ও কথা বলা এড়িয়ে চলুন, এবং একসঙ্গে অনেকটা না খেয়ে ভাগ করে খান।

উপসংহার

দাঁড়িয়ে পানি খাওয়া বেশির ভাগ সুস্থ মানুষের জন্য স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিকর, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। জয়েন্ট বা কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো ভাইরাল দাবিগুলোও প্রমাণভিত্তিক নয়। তবে যারা খুব দ্রুত পানি খান, বা যাদের অ্যাসিডিটি/গিলতে সমস্যা আছে, তাদের জন্য বসে ধীরে পানি খাওয়া বেশি আরামদায়ক ও নিরাপদ হতে পারে।

সবচেয়ে ভালো নিয়ম হলো: সুযোগ পেলে বসে শান্তভাবে পানি খান, না হলে দাঁড়িয়ে হলেও থেমে ধীরে খান। পানি খাওয়ার ভঙ্গির চেয়ে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং শরীরের অস্বস্তি হলে তা গুরুত্ব দেওয়া, এটাই বেশি জরুরি।

author-avatar

About Md. Monirul Islam

I’m Md. Monirul Islam, Founder & Director of CleanTech Engineering Ltd. My journey in environmental engineering started with a passion for solving Bangladesh’s water challenges. Over the years, I’ve worked with organizations like the Department of Environment (DOE), PGCB, Enviro Consultants Ltd., BEEA, and Techno Bangla Engineering Ltd., gaining hands-on expertise in water purification, ETP design, and sustainable sanitation systems.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *